Friday, January 11, 2019

ইব্রাহিম শাহ কার্খী রহঃ কর্তৃক নির্মিত জৌনপুর মসজিদ


ইব্রাহিম শাহ শারকি তার শাসনামলে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে উলেমা ও জ্ঞানী-গুণীদের আমন্ত্রণ করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু ইসলামী পুস্তক লিখিত হয়। তার সময়ে জৌনপুর মুসলিম সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে। তিনি বহু প্রাসাদ নির্মাণ করে নগরী সুসজ্জিত করেছিলেন। তার নির্মিত ‘আতালা মসজিদ’ জৌনপুরের স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শনস্বরূপ আজও বর্তমান আছে। ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম শাহের মৃত্যু হলে তার পুত্র মাহমুদ শাহ সিংহাসন লাভ করেন। চুনারের অধিকাংশ জেলা তিনি রাজ্যভুক্ত করেন। কিন্তু তার কালনি অধিকার করার প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। বিখ্যাত ‘লাল দরজা’ তিনিই নির্মাণ করেছিলেন। হুসাইন শাহ্ ছিলেন জৌনপুরের শেষ স্বাধীন সুলতান। তিনি মনোরম জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৪৬৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাহলুল লোদী কর্তৃক বিতাড়িত হন। বাহলুল লোদী তার পুত্র বরবক শাহেক সার্বভৌম ক্ষমতা দান করে জৌনপুরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। এরূপে জৌনপুরের স্বাধীনতার অবসান ঘটে। জৌনপুরের শারকি শাসন ৮০ বছরেরও অধিককাল স্থায়ী হয়েছিল। এ সময়ে জৌনপুর সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং ভারতীয় শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। উত্তর-ভারতের হিন্দু অধ্যুষিত অংশে জৌনপুর ছিল মুসলমানদের প্রথম সুরক্ষিত স্থান। শারকি রাজত্বের সময় এটি ছিল মুসলিম শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে জৌনপুর পারস্যের শ্রেষ্ঠ নগর সিরাজের ন্যায় খ্যাতি অর্জন করেছিল। তাই একে ‘ভারতের সিরাজ’ বলা হতো।

No comments:

Post a Comment

Popular Post

কুতুব মিনার

কুতুব মিনার  ( উর্দু : قطب منار  ক্বুতুব্‌ মিনার্‌  বা  ক্বুতাব্‌ মিনার্‌ )  ভারতের   দিল্লীতে  অবস্থিত একটি স্তম্ভ বা মিনার, যা বিশ্বের সর্...